ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​হুন্ডি ও অপরাধ ঠেকাতে রোহিঙ্গাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৩:২৭:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৩:২৮:২৮ অপরাহ্ন
​হুন্ডি ও অপরাধ ঠেকাতে রোহিঙ্গাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব ​ছবি: সংগৃহীত
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ লেনদেন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধ করতে তাদের জন্য নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়। মূলত অনানুষ্ঠানিক এই অর্থ লেনদেনকে সরকারের নজরদারির আওতায় আনতেই এমন উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে।

হুন্ডির মাধ্যমে আসা অর্থের কোনো বৈধ হিসাব বা ‘অডিট ট্রেইল’ না থাকায় তা মাদক চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা, মানব পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তুত করা ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতি মাসে হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ৮০ কোটি টাকা আসে। এই সমান্তরাল অর্থনীতির কারণে বছরে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অবৈধ এই অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা এক হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এসব অ্যাকাউন্টে কোনো ঋণ সুবিধা থাকবে না এবং মাসিক লেনদেনের একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে খোলা এসব অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউয়ের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বসবাসরত প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ বা ৮০ হাজার পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য বিদেশে থাকেন। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ পেতে তারা স্থানীয় হুন্ডি এজেন্টদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

টিআইবি ও বিএফআইইউয়ের তথ্যমতে, প্রতিটি পরিবার বিদেশ থেকে মাসে গড়ে ১০ হাজার টাকা করে পায়। এই হুন্ডি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই মানব পাচারকারী এবং ইয়াবা সিন্ডিকেটগুলো তাদের অবৈধ অর্থের আদান-প্রদান নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালুর মাধ্যমে হুন্ডি বা ইয়াবা বাণিজ্য খুব একটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, কারণ অপরাধী চক্রগুলো সবসময়ই বৈধ চ্যানেল এড়িয়ে চলে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এনআইডি সমমানের নথিপত্রের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খোলা হলে তা ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যা চলমান প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সাবেক সেনা কর্মকর্তারাও সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এমন ভুল বার্তা দিতে পারে যে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে আত্মীকরণের দিকে এগোচ্ছে। তাই এমন নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। সূত্র: ডেইলি স্টার

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ